শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পাহাড়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী !

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪

বিএনপির সরকারে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন সাংসদ মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অপাহাড়ি সাংসদকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ায় আদিবাসী অঞ্চলটিতে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধে উঠছে। সরকারের এমন কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পরিপন্থী বলেও মনে করছেন আদিবাসীরা। এমন অবস্থায় পদটি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি ? তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

তবে নির্ভরশীল মহল থেকে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্র্রতিমন্ত্রী থেকে সরিয়ে মীর হেলালকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দিতে পারে সরকার।

১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেন। পরিষদে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দা দীপেন দেওয়ান। তিনি পার্বত্য রাঙামাটি থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত সাংসদ। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রণালয়টিতে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)’র সাংসদ মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। দীপেন দেওয়ান পার্বত্যাঞ্চলের চাকমা জাতিগোষ্ঠীর হলেও মীর হেলাল উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দাও নন, পাহাড়িও নন।

এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের এ কার্যক্রম চুক্তির সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো সরকারের আমলেই এমন ঘটনা ঘটেনি। এটা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবং আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদও চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সে সময় ভূমি কমিশন আইনের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন আইনমন্ত্রী। তাদের আমাদের অনেক আলোচনাও হয়েছিল।

এ বিষয়টি নিয়ে নতুন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, এটা আলোচনাসাপেক্ষ বিষয়। আমি এ ব্যাপারে পরে জানাব।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। এটি রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার দীর্ঘ দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটায়। চুক্তির মাধ্যমে উপজাতীয়দের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষাগত অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা স্বীকৃতি পায়। চুক্তির মধ্য দিয়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়। পরের বছর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় যাত্রা শুরু করে ।

ভিডিও