বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মন্ত্রীসভায় স্থান পেলেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৪ জন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১২

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার ২৩ সংসদীয় আসনের ২১টিতে ভূমিধস বিজয়ের পর এবার মন্ত্রী হলেন ৪ জন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তারা শপথগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পাঠ করান।

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-১১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমটিরি সদস্য। এর আগে ২০০১ সালে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২৫ মার্চ ২০০৪ পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমদ। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

এদিকে প্রথমবারের মতো রেকর্ড ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের বিজয়ী বিএনপির দীপেন দেওয়ান। এক-এগারো সময়কালে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সিনিয়র সহকারী জজের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন।

এদিকে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। মীর হেলাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাবা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

এবার বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ পুরো বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ১০ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুজনের নাম এসেছে।

পূর্ণমন্ত্রীদের দায়িত্ব আরও যারা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। পররাষ্ট্র (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আওয়াল মিন্টু।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরী। বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র-পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আফরোজা খানম রিতা।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেনআসাদুল হাবিব দুলু। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জাকারিয়া তাহের এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এ এন এম এহসানুল হক মিলন

এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন ফকির মাহবুব আনাম। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শেখ রবিউল আলমকে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র-পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শরীফুল আলম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)। সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজীব আহসান ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আব্দুল বারী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মীর শাহে আলম। অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. জুনায়েদ আব্দুল রহিম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ইশরাক হোসেন। মহিলা ও শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ফারজানা শারমিন। পরিবেশ, ধর্ম ও আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. নুরুল হক নুর। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এম ইকবাল হোসেইন। স্বাস্থ্য, ডাক-টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এম এ মুহিত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আহম্মদ সোহেল মঞ্জু। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ববি হাজ্জাজ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

ভিডিও