দীর্ঘ দুই দশক পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। এই জয়ের মধ্যদিয়ে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত হলো, যেখানে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, সারা দেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের জয়জয়কার। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের পর এটিই বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং যুগপৎ কর্মসূচির ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই এই গণরায় এসেছে।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাহত হয়েছিল জাতীয়তাবাদী শক্তি। তবে সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দলকে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করেন তারেক রহমান।
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—উভয় আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নিজের জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার প্রমাণ দেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থেকে। ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর দলকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংগঠনে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দলকে নির্বাচনী বিজয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও গণভবনের চাবিকাঠি যাচ্ছে বিএনপির হাতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে পারে। দীর্ঘ নির্বাসন, রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি দেশকে কোন পথে এগিয়ে নেন— এখন সে দিকেই তাকিয়ে আছে সারা দেশ।
সব বাধা পেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এক নতুন অধ্যায়— যাকে অনেকে ইতোমধ্যেই বলছেন, ‘তারেক যুগ’।