ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি- এ তিনটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে এই তিন জেলাতেই ‘না’ ভোট ছিল সর্বাধিক।
বান্দরবান
বান্দরবান আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট।
এ আসনে ১৮৭টি কেন্দ্রের গণনা শেষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮৯ হাজার ৩৬৬টি। ফলে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জিতলেও গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া ১ লাখ ৪৮ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৭৯ ভোট।
গণভোটে এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫টি এবং ‘না’ ভোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪২টি—অর্থাৎ ‘না’ ভোটই এগিয়ে।
নিজ কেন্দ্র আচলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এয়াকুব আলী চৌধুরীর পরাজয় রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাঙামাটি
রাঙামাটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী দীপেন দেওয়ান ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট।
এ জেলায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৬৯৯টি, বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৫টি— যা বড় ব্যবধান।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী দিবাগত রাত আড়াইটায় ফলাফল ঘোষণা করেন।
সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন আসনেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলেও গণভোটে তিন জেলাতেই ‘না’ ভোটের আধিপত্য স্পষ্ট হয়েছে। ফলে পাহাড়ে রাজনৈতিক বার্তা দুই ধারায় বিভক্ত— সংসদে বিএনপির শক্ত অবস্থান, আর গণভোটে ভোটারদের ‘না’ উচ্চারণ।