হ্রদ-পাহাড়ের তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও শুরুতে কিছু কেন্দ্রে উপস্থিতি কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ে এবং অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
রাঙামাটি
রাঙামাটি-২৯৯ সংসদীয় আসনে ১০ উপজেলায় ২০টি হেলিসিটিসহ মোট ২১৩ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। জেলায় মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। বিভিন্ন কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব কেন্দ্র পরিদর্শন করে জানান, দুপুর পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে একটি আঞ্চলিক দলের লোকজন তার সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিবেশ ভালো রয়েছে, অভিযোগ ভিত্তিহীন।
বান্দরবান
বান্দরবান-৩০০ আসনের লামা উপজেলায় ৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। ছাগলখাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
ভোটাররা বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে ঈদের আনন্দের মতো অনুভূতি হচ্ছে।
লামা উপজেলায় মোট ভোটার ৮৭ হাজার ৫৫৪ জন। এর মধ্যে ৩৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানান, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে।
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়িতে একটিমাত্র আসনে ২০৩ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, সব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা
তিন জেলায় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মোতায়েন রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। রাঙামাটিতে ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, আড়াই হাজারের বেশি আনসার ও প্রায় তিন হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
পাহাড়ে সকালটা শুরু হয়েছিল কিছুটা ধীরগতিতে, তবে দুপুর গড়াতেই ভোটারদের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কেন্দ্রগুলো। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন পাহাড়ের মানুষ।