ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শিবিরে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি কক্সবাজার-টেকনাফসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলছে ব্যাপক তল্লাশি ও টহল।
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ঘুরে দেখা যায়, শিবিরের ভেতরে একাধিক তল্লাশিচৌকি বসিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা রোহিঙ্গাদের তল্লাশি করছেন। একই সময় শিবিরসংলগ্ন টেকনাফ সড়কে সেনাবাহিনীর টহল লক্ষ্য করা গেছে। কুতুপালং শিবিরে বর্তমানে ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এ ছাড়া উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আশ্রয়শিবিরগুলোতে কড়া নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গা যাতে শিবির ছেড়ে বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য বিশেষ তল্লাশি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।
রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৪৬টি যৌথ অভিযানে ৫৯ জন পলাতক আসামিসহ ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে অবস্থান করা ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ছয়টি অবৈধ অস্ত্র ও ১৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক, বাইপাস সড়ক ও সৈকত সড়কে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিজিবি কক্সবাজার-৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৯ জানুয়ারি থেকে ১১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে কাজ করছে।
নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জেলার সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতেও প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও ও উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছয় লাখের বেশি সংখ্যালঘু ভোটারের বসবাস। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, শঙ্কার কোনো কারণ নেই।