রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম উত্তরে বিএনপি-জামায়াত সমানে সমান

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৫

ঘড়ির কাঁটা ঘুরে চলছে। পেরিয়ে যাচ্ছে একেকটি মুহুর্ত। একেবারে ঘরের দুয়ারে এসে নির্বাচন কড়া নাড়ছে। রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হবে ভোট। নির্বাচনি আমেজ নিয়ে ভোটারদের শুরু হবে কেন্দ্রে যাওয়ার তাড়া।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামে রয়েছে সাতটি আসন। সাতটি আসন হলো- হাটহাজারী, রাউজান, সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া। মাঠ জরিপে দেখা যাচ্ছে, উত্তরের আসনে বিএনপি- জামায়াতের নির্বাচনি অবস্থান ফিফটি ফিফটি। এখানে বিএনপির সাথে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে যাচ্ছেন জামায়াত প্রার্থীরা। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং রয়েছে। রয়েছে হেফাজতের প্রভাব। তারওপর ভোটাররা আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেন বেশি। ফলে জয়লাভের জন্য সব দলকেই চুলচেরা বিশ্লেষণে এগিয়ে যেতে হবে- বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা অন্তর্দ্বন্দ্ব আর গ্রুপিংয়ে বিভক্ত। এখানে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিনকে এর মূল্য দিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। যার ফল যেতে পারে জামায়াতের বাক্সে। এখানে  জামায়াতের প্রার্থী ছাইফুর রহমানের সাথে নুরুল আমিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলা যায়। এ আসনে অনেক জায়গায় বিএনপি প্রার্থীর অবস্থান ভালো থাকলেও উপজেলার মিঠানালা, সদরসহ কয়েকটি এলাকায় জামায়াত এগিয়ে।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের সঙ্গে জামায়াতের নুরুল আমিনের হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে অবস্থানের স্পষ্ট করেছেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জামায়াতকে ভোট দেওয়া ‘হারাম ও নাজায়েজ’ বলেও মন্তব্য করেছেন। এ জামায়াতবিরোধী অবস্থানে আমিরসহ হেফাজতের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা রয়েছেন। এমন অবস্থায় সরওয়ার আলমগীরের বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মদ কবির করিমও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে জামায়াতও আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

আবার এ আসনে বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী একতারা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাইজভান্ডার দরবার শরীফের উত্তরসূরি হিসেবে তারও নির্দিষ্ট কিছু ভোট রয়েছে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। তিনি সন্দ্বীপবাসীর কাছে পরিচিত মুখ। সন্দ্বীপে বিএনপির শক্ত অবস্থান। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদারও এলাকায় নতুন ইমেজ তৈরি করেছেন। সুতরাং এখানে বিএনপি আর জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির সাবেক আসলাম চৌধুরী ও জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিক রয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজিসহ নানা ইস্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে মনে করছেন ভোটাররা। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরীর মেয়ের পক্ষ থেকে ১২’শ জনের মাঝে ৫০ হাজার টাকার একটি করে চেক বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু পরে খবর রটেছে, চেকগুলো নাকি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে বাউন্স হয়েছে। নির্বাচনি মৌসুমের এমন ঘটনায় আসলাম চৌধুরীর ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে। সমূহ কারণে বিএনপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে কাঠখড় পোহাতে হতে পারে। তবে শেষ হাসির ঝিলিক আসলামের মুখেই দেখা যেতে পারে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশের নাছির উদ্দিন মুনিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে মীর হেলাল এগিয়ে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রয়েছেন তিনি। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির বেশির ভাগ নেতা-কর্মী আগে থেকে হেলালের সঙ্গে রয়েছেন। পরে মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতাও তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন।

ভোটাররা জানান, হেফাজতে ইসলাম-অধ্যুষিত এই এলাকায় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব নাছির উদ্দিন যেমন হেফাজতের ভোট পাবেন তেমনি মীর হেলালও পাবেন। দুজনেরই বাড়ি উপজেলা সদরে। তবে নেতা প্রার্থী হলেও হেফাজতের কিছু নেতা-কর্মী মীর হেলালের সাথে কাজ করছেন।  উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার মীর হেলালের পক্ষে বিভিন্ন সভা সমিতিতে অংশগ্রহণ করছেন। ভোট চাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও বৃহত্তর সুন্নি জোট থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ইলিয়াস নুরীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। গিয়াস এগিয়ে রয়েছেন। তবে ৫ আগস্টের পর রাউজানে গোলাগুলি, খুনোখুনির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটাররা বিকল্প প্রার্থীর কথাও চিন্তা করছেন জানা গেছে। সেই হিসেবে গিয়াসকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটু বেগ পেতে হতে পারে। খুনোখুনির ঘটনায় সেখানকার লোকজন সুন্নি জোট কিংবা জামায়াতের শাহজাহান মঞ্জুকেও বেছে নিতে পারেন জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে ও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হুমাম সাধরণ অনেক ভোটারের সমর্থন পাচ্ছেন। তবে এলাকায় চিকিৎসাসহ নানা সামাজিক কাজে দীর্ঘদিন কাজ করে যাওয়া রেজাউল করিমও আলোচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি বৃহত্তর সুন্নি জোটের এম ইকবাল হাসানেরও সমর্থন রয়েছে।

ভিডিও