চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী। বিশ্লেষকদের মতে, ধানের শীষের মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং দাঁড়িপাল্লার অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের জন্য সবচেয়ে বড় ‘পথের কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ফুটবল প্রতীকের লিয়াকত আলী।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বাঁশখালীজুড়ে পাপ্পা ও জহিরুল ইসলামের সরব উপস্থিতি থাকলেও শেষদিকে ভোটের অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকত আলী। সাবেক বিএনপি নেতা হিসেবে দলীয় ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশ নিজের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ভোটে ভাঙন ধরার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম নিজস্ব সংগঠিত ভোটব্যাংক ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে মাঠে থাকলেও, লিয়াকত আলীর প্রার্থী হওয়ায় ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নির্দলীয় ভোটার ও বিএনপি ঘরানার ভোটারদের একটি অংশ লিয়াকত আলীর দিকে ঝুঁকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তার কারণে লিয়াকত আলী তরুণ ও মধ্যবয়সী ভোটারদের মধ্যে ভালো প্রভাব ফেলেছেন। এতে পাপ্পা ও জহিরুল— উভয় শিবিরেই বাড়ছে উদ্বেগ।
এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক (তায়েফ), ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, ইসলামীক ফ্রন্টের চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মালেক আশরাফী এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী এহসানুল হক নির্বাচনী মাঠে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘুরপাক খাচ্ছে পাপ্পা–জহিরুল–লিয়াকত এই ত্রিমুখী সমীকরণকে ঘিরেই।
বাঁশখালী আসনে পোষ্টাল ভোটসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন এবং পোষ্টাল ভোটার ৬ হাজার ৭১৪ জন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা গণভোটের ব্যালেটেও ভোট দেবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদুল আলম জানিয়েছেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে থাকবেন।