রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ভোটের মাঠে বিভক্ত হেফাজত, সমীকরণে টানাপোড়েন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭

নির্বাচন ঘিরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক বড় ভোট ব্যাংক থাকায় নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে সংগঠনটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকাসহ অন্তত ৪০টি আসনে হেফাজতের সমর্থন জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, পটিয়া ছাড়াও সিলেট ও ঢাকার কয়েকটি এলাকায় হেফাজতে ইসলামের শক্ত ভোট ব্যাংক রয়েছে। এই ভোট ব্যাংক নিজেদের পক্ষে নিতে বিএনপি ও জামায়াত— উভয় জোটই হেফাজত ঘনিষ্ঠ নেতাদের জোটে নিয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা জানান, দেশে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ও হেফাজতে ইসলাম মতাদর্শী ভোট রয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ। যার সিংহভাগই চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কেন্দ্রীভূত। তবে নির্বাচনি বাস্তবতায় এই ভোট ব্যাংক ঐক্যবদ্ধ নেই। হেফাজতে ইসলাম সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও নেজামী ইসলামী পার্টি রয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে। অপরদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে জমিয়তে উলমায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। ফলে হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত জোটের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘আকিদাগত কারণে হেফাজত আমির তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। জামায়াতের রাজনীতি এখন ক্ষমতাকেন্দ্রিক। তারা ইনসাফের কথা বললেও আল্লাহর আইনের কথা বলছে না। আল্লাহর আইনের চেয়ে বড় ইনসাফ কী হতে পারে?’

তিনি জানান, এ বিষয়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যেও ঐকমত্য রয়েছে।

অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ১১-দলীয় জোটের চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দিন মনির বলেন, ‘হেফাজতের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ১১-দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়েছে। কোথাও কোথাও আমাদের নেতারাই প্রার্থী হয়েছেন। তাই এবারের নির্বাচনে ভোট বিপ্লব হবে।’

জানা গেছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে হেফাজতে ঘনিষ্ঠ যেসব প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন তারা হলেন— নীলফামারী-১ আসনে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবীব এবং যশোর-৫ আসনে মুফতি রশিদ ওয়াক্কাস।

অন্যদিকে জামায়াত জোট থেকে নির্বাচনে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমেদ আবদুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা নাছির উদ্দিন মনির, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও মাওলানা জালাল আহমেদ।

এদিকে নির্বাচনের বাইরে থাকা হেফাজতের আরেকটি অংশ সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জামায়াতবিরোধী একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। জামায়াতকে ভোট দেওয়া ‘হারাম ও নাজায়েজ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ফটিকছড়ি আসনের বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দিয়েছেন। এ জামায়াতবিরোধী অবস্থানে আমিরসহ হেফাজতের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা রয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, ‘হেফাজত আমির জামায়াতকে নিয়ে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। আমরা বিষয়টি জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তারাই বিচার করবে।’

ভিডিও