ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ ও বিরোধিতার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিবেশনে জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া আট শিক্ষকসহ আওয়ামীপন্থী ২৪ শিক্ষক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। একই সঙ্গে সিনেট অধিবেশন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ২৪ সদস্য।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপাচার্যের সভাকক্ষে সিনেট অধিবেশন শুরু হয়। এদিকে সিনেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ভয়েস অব স্টুডেন্টস ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ভয়েস অব স্টুডেন্টসের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের বিষয়ে আমরা দাবি জানিয়েছি। আট শিক্ষককে অধিবেশনে না রাখার কথা জানানো হয়েছে। আওয়ামীপন্থী সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত আট শিক্ষক সিনেটে থাকবেন—এমন খবরে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। পরে উপাচার্য আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তারা অধিবেশনে থাকবেন না।
পরে সংবাদ সম্মেলন করে সিনেট অধিবেশন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন চাকসুর ২৪ সদস্য। চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আমরা শুধু আটজন শিক্ষককে নিয়ে কথা বলছি না। শিক্ষার্থী নির্যাতন, হত্যার মদদ এবং শেখ হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতায় জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে আমরা ১৯টি দাবি জানিয়েছি।
এদিকে অধিবেশনে অনুপস্থিত শিক্ষকদের একজন ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড. মো. দানেশ মিয়া বলেন, আমরা সবাই এসেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তাই সিনেটে ঢুকতে পারিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষকরা হলেন—জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ, অধ্যাপক ড. খসরুল আলম কুদ্দুসী, আইন বিভাগের অধ্যাপক এ. বি. এম. আবু নোমান, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য, ফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান এবং ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক।
প্রসঙ্গত, চবিতে সর্বশেষ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দল ৩৩টি পদেই জয়ী হয়। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এরপর আর শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে ওই ৩৩ প্রতিনিধির মধ্যে ২৪ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।