চট্টগ্রামে সিএনজি গ্যাস সংকট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমেছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, আগের মতো দীর্ঘ লাইন থাকলেও অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে গ্যাস নিতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, এখন তা নেমে এসেছে ১৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টায়।
চালকরা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন আয় কমে যাচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ফিলিং স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যাত্রী পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় বর্তমানে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ বেড়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি পরিস্থিতি।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে সমস্যার কারণে চট্টগ্রামে সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, গতরাত ২টা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হয়েছে। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
এদিকে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ১০ মিনিট থেকে টার্মিনালটি দৈনিক ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করছে। এর ফলে আমদানি করা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ৬৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, গতকাল আমরা ১৮ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পেয়েছিলাম। আজ আরও বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। পাইপলাইনে চাপও বেড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।