চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা আজিমপাড়ায় ছিল ৬০ বছর বয়সি নুরজাহান বেগমের বাড়ি। বয়সের কারণে স্বাভাবিক ভাবেই তিনি বার্ধক্যগ্রস্ত ছিলেন। তার ওপর উচ্চ রক্তচাপের রোগী ছিলেন তিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে হাই ব্লাড প্রেসারজনিত জটিলতা (এইচটিএন) তাকে আরও কাবু করে ফেলে। শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কার্যকারিতা হারাতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে ‘মাল্টি অর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোম (এমওডিএস)’ বলে।
অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রোববার মুমূর্ষু নুরজাহান বেগমকে গ্রামের বাড়ি শিকলবাহা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশস্থ পার্ক ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তখন বড় দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ মারা যাওয়া নুরজাহান বেগমকে নিয়ে আজ ২৭ জুলাই জেলা সিভিল সার্জন প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।
এদিকে, জেলায় নতুন করে আরও ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২২ জন ভর্তি আছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯১ জন নারী, ৪৩৯ জন পুরুষ এবং ১২৫ জন শিশু।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত ৪৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ জুনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২২ জন। এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ২ নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত ১২ জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মরিয়ম বেগম (৩১) নামে একজন মারা যান। জনসাধারণকে তিনি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
পূর্বতারা/ইউডি