উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শরীরে ব্যথা, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ডেঙ্গুর স্বাভাবিক লক্ষণ হলেও সময়ের সাথে সাথে এর ধরণে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকেরা বলছেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর ধরণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছদ্মবেশী। কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর নয়, সামান্য জ্বরের পরও হঠাৎ অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেক রোগীর মধ্যে শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি শক সিনড্রোমের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার উপসর্গও রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবারই জ্বর, বমি ও নিম্ন রক্তচাপ ছিল। একজন রোগী পেয়েছি, যাঁর মাড়ি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তবে এটিও ডেঙ্গুর উপসর্গ। বর্ষা মৌসুম বর্তমানে ডেঙ্গুর সিজন বলা যায়। রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গুর ধরন বুঝতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৪৬২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৪ জন ভর্তি হয়েছেন চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিনে। প্রতিদিন গড়ে ১২ জন করে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় মৃতুটিও ঘটেছে গত শনিবার।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালেও ২০ শয্যার ডেঙ্গু ব্লক আছে। অন্যান্য হাসপাতালেও অন্তত ১০ থেকে ১৫ বেড ডেঙ্গুর জন্য রাখতে বলা হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি আছে। তবে জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে।’
পূর্বতারা/ইউডি