জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগের দুই নেতার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পায়নি দলের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা ও তদন্ত কমিটি। তদন্তে অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে অভিযুক্ত দুই নেতাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে অভিযোগকারী তরুণীকে দলের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এস এম সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা ও তদন্ত কমিটি বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম সিদ্ধান্ত নেয়, এস এম সুজা উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক শিষ্টাচার ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। একইভাবে অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় সাদিয়া আফরিনকেও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনের মাধ্যমে দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে মূল অভিযোগকারী সানজিদা সুলতানা ইভাকে এনসিপি এবং এর আওতাধীন সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ১৯ জুন নগরের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির নারী কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ আনেন।