সুয়ারেজ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চীনে গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কাজ করলেও প্রশিক্ষণ কেন চীনে হচ্ছে? আবার সুয়ারেজ প্রকল্পের কোনো প্রকৌশলী এতে অন্তর্ভুক্ত নন—এসব নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন ।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকা ব্যায়ের সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রায় অর্ধেক কাজ বাকি থাকতেই চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ফুজু শহরে ১৪ দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম এবং কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেন। শুরুতে মড-৩ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইউসুফের নাম থাকলেও পরে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
ওয়াসা সূত্র মতে, ‘সেমিনার অন আরবান ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন সিস্টেম টেকনোলজি ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ চীন সরকারের অর্থায়নে ১১ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওয়াসার অফিস আদেশ অনুযায়ী, সফরকালকে সরকারি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক ব্যয় নেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে ওয়াসার ভেতরেই সমালোচনা রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সফরকে ‘বিলাসী ভ্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলেও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কেন চীনে হচ্ছে।
আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট জনবল নির্বাচনে। সুয়ারেজ প্রকল্পের মূল কাজ হচ্ছে পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ, কিন্তু প্রশিক্ষণে সুয়ারেজ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো প্রকৌশলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
জানা গেছে, বর্তমানে প্রকল্পটির আওতায় ২০০ কিলোমিটার পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে ১০৬ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়েছে, যা মোট কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে হালিশহরে নির্মাণাধীন পয়োঃশোধনাগার ও ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সিভিল কাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ এবং ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ বলে জানিয়েছে ওয়াসা।
এদিকে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের সময়ই নগরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পাহাড়তলীর সরাইপাড়া এলাকায় টানা আট দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অনেক এলাকায় পানি এলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।
ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার পানির ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ থেকে ৫১ কোটি লিটার হলেও উৎপাদিত হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার পানি।
বিতর্কিত এই প্রশিক্ষণ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম ও নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানে আলম বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি চূড়ান্ত হয়েছিল। পরে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি বাতিল করার সুযোগ ছিল না।