চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরীর ৯টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একই সঙ্গে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হামের সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার খাদিজা আহমেদ জানান, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও সংক্রমণের বিস্তারের ভিত্তিতে এসব এলাকা হটস্পট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চিহ্নিত হটস্পটগুলো হলো— নগরীর ২ নম্বর জালালাবাদ, ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নম্বর লালখান বাজার, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নম্বর আলকরণ, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ও ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ড।
খাদিজা আহমেদ বলেন, ডব্লিউএইচওর গাইডলাইন অনুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানেই আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসকও হামে আক্রান্ত হন।
তিনি জানান, বর্তমানে চমেক হাসপাতালে প্রায় ১৩০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন আইসিইউতে ভর্তি। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের অনেকের শরীরে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের একজন আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের পর শিশু ভর্তি ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেড়েছে। নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় পরিস্থিতি গুরুতর হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে বন্দর-পতেঙ্গা, সদরঘাট-আলকরণ-কোতোয়ালি এবং বাকলিয়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।