চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাযায় শুধু যে আওয়ামী পন্থি, তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন তা নয়, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো। একজন আওয়ামী মতাদর্শিক নেতার জানাযায় বিদলীয় নেতাদের এমন উপস্থিতি জনমনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিন্ন দলের নেতারা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে ব্যক্তিগত নানা স্মৃতি রোমন্থন করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কোতোয়ালি আসনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী ডা .ফজলুল হক। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে বলতে গিয়ে এ নেতা বলেন, তিনি ছিলেন জনতার নেতা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আওয়ামী লীগের চট্টগ্রামের অভিভাবক ছিলেন। দলের হিসেবে বিরোধী মতাদর্শের হলেও আমাদের সাথে উনার ভাল সম্পর্ক ছিল। পরোপকারী মানুষ ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের মুরুব্বী তিনি। জীবনে অনেকের উপকার করেছেন তিনি। চট্টগ্রামের জন্য তার অবদান অনেক।
জানাযায় গণমাধ্যমের কাছে দেয়া বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন একটি দলের হয়ত রাজনীতিবিদ ছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামের জন্য উনার অবদান আছে। আমরা বিভিন্ন সময় সেটা দেখেছি। দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জানাযায় উপস্থিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মো. শাহ আলম স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেন, ৭০’র অসহযোগ আন্দোলনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অবদান ছিল। ১৯৭১’র যুদ্ধে তিনি ছিলেন ১ নম্বর সেক্টরের সাব কমান্ডার। শুভপুর প্রান্তরে অপারেশনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেন।
মোশাররফ হোসেন চৌধূরীর জানাযায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা অংশগ্রহণ করেন।
পূর্বতারা/ইউডি