চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরীর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা জলজট মুক্ত থাকবে বলে তিনি আশা করছেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম নগর জলাবদ্ধতা সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মেয়র দাবি করেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও চকবাজার এলাকায় যেভাবে পানিবন্দি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এবার পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বৈশাখ মাসে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাব্যাপী টানা ভারী বৃষ্টিপাত একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল, যা জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে জটিল করেছে।
জলাবদ্ধতা প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কাজ করছে। হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও রামপুরা খালসহ বিভিন্ন খালে নির্মাণ কাজের কারণে কিছু বাঁধ সময়মতো না খোলায় পানি জমেছে। জোয়ারের পানি ও বৃষ্টির পানি একসাথে হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মেয়র আরও বলেন, বর্তমানে দুই মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কারের বিশেষ কর্মসূচি চলছে এবং স্লুইস গেট ও পাম্পিং স্টেশন চালু হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সেমিনার উদ্বোধন করে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম।
সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নগর পরিকল্পনাবিদ, সাংবাদিক ও রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।