চট্টগ্রামে শিশুদের মধ্যে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চলতি মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে জেলায় হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। রোগীর এই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালের ‘হাম কর্নার’ সম্প্রসারণ করে মেডিসিন বিভাগের ১ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ৮৮ জন শিশু, যাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ১৩ জনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে সীমিত শয্যা নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল, সেখানে এখনো অনেক ক্ষেত্রে একাধিক রোগীকে একই শয্যায় রাখতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে টানা ৩৩ দিনে ৫৩৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত পাঁচ দিনেই ভর্তি হয়েছে ১৭০ জন। এর আগে ১২ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১২৭ শিশু চিকিৎসা নিতে আসে। চিকিৎসকদের মতে, শুরুতে যারা আক্রান্ত হয়েছিল তাদের সংস্পর্শে থাকা শিশুরাই এখন ধাপে ধাপে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসছে, ফলে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাম ভাইরাস শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, ফলে সহজেই ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের একটি বড় অংশই শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ায় ভুগছে। গরম আবহাওয়ার প্রভাবও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলায় ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭ লাখ। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডেও টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী ১০ মে পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তাপমাত্রা বাড়লে নিউমোনিয়া বাড়ে। এখন গরম বেশি পড়ছে। কড়া রোদে যাওয়া, গরমে ঘেমে যাওয়া এবং গরম থেকে স্বস্তি পেতে ঠান্ডা পানীয় বা খাবার খাওয়ার প্রবণতার কারণে জ্বর ও নিউমোনিয়া হচ্ছে।
শিশুরা যাতে বেশি রোদে না যায় এবং রোদ থেকে এসে ঘাম গায়ে শুকিয়ে না ফেলে। এছাড়া গরম কমাতে ঠান্ডা খাবার না খায় এবং গরম থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে এসির অতিরিক্ত ঠান্ডা তাপমাত্রায় প্রবেশ না করে, এমনটাই পরামর্শ তার
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, এখন নিউমোনিয়ার ‘সিজন’। আমাদের বিভাগে বিভিন্ন রোগ নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০-৪০০ শিশু ভর্তি থাকে। এছাড়া প্রতিদিন একশ জনের মতো রিলিজ নিয়ে যায়। আবার এক থেকে দেড়শ শিশু ভর্তি হচ্ছে। এখন যারা আছে, তাদের মধ্যে শ’খানেকের নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট আছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনও বলেন, নিউমোনিয়া নিয়ে সারা বছরই শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে এখন গরম বাড়ায় রোগী বেড়েছে। এছাড়া বেড়েছে ‘সিজনাল জ্বর’ আক্রান্তের সংখ্যাও।