চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আগ্রাবাদ এলাকায় প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় এক তরুণী নিহত হয়েছেন। নিহত ওই তরুণীর নাম সামিয়া জাহান তানিশা। তিনি চান্দগাঁও হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজে অর্থনীতিতে অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে পতেঙ্গা থেকে প্রাইভেট কারে করে নগরে আসার পথে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত তরুণীর সাথে প্রাইভেট কারে থাকা এক যুবককে আটক করেছে বন্দর থানা পুলিশ। ওই যুবকের নাম মো. সামি। দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেটকারটি পুলিশ জব্দ করেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, আটককৃত ওই যুবক পরিকল্পিতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তানিশাকে হত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই ফারতাকিম মাহমুদ জানান, আমার বোন তানিশা পড়ে হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজে। আমাদের বাসা নগরের রাহাত্তারপুল এলাকার ফুলতলি শাহ আমানত হাউসিং সোসাইটি। সে মাহিন্দ্রায় করে কলেজে আসা যাওয়া করে। আজ সকালে কলেজে তার পরীক্ষা ছিল। কিন্তু সে পতেঙ্গায় গেল কেন বুঝতে পারছি না? আমাদের ধারণা, পুলিশের কাছে আটক ওই ছেলেটি আমার বোনকে জিম্মি করে পতেঙ্গায় নিয়ে গেছে। তারপর আসার পথে পরিকল্পিতভাবে তানিশাকে গাড়িচাপা দেয়। এটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি আমরা।
তবে পুলিশের হাতে আটক যুবক সামির সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, সামিয়া তানিশা আমার বন্ধু। তার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্রে তার সাথে আমার যোগাযোগ। আমি কাতার প্রবাসী। গত ৩০ মার্চ আমি দেশে আসি। পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে কয়েকদিন ধরে তানিশা মানসিক চাপে ছিল। বিষয়টি সে আমাকে জানায়। আমি তাকে পতেঙ্গায় যাওয়ার প্রস্তাব করলে সে রাজি হয়। আজ তাকে নিয়ে প্রাইভেট কারে করে আমরা পতেঙ্গা যাই। সেখান থেকে আসার পথে এক্সপ্রেসওয়ের আগ্রাবাদ মোড় এলাকায় এলে অন্য একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে আমাদেরকে ওভারটেক করে। এতে আমাদের প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের সাথে ধাক্সা দেয়। এতে তানিশার মাথায় আঘাত লেগে গুরুতর আহত হয়। আমিও আহত হয়েছি।
এ ব্যাপারে বন্দর থানা পুলিশের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ফোনে পুলিশকে পাওয়া যায়নি।
পূর্বতারা/ ইউডি