জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনী অভিযানে যাওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা খবর পেয়ে গেছে। আর অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখে, কালভার্ট ভেঙ্গে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এমন অবস্থায় পূর্বাভাস পাওয়া সন্ত্রাসীরা অভিযানের আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি প্রশাসনের ভিতরেও সন্ত্রাসীদের সোর্স রয়েছে ? যারা এ অভিযানের খবর আগেভাগে পৌঁছে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, এটি অনেক বড় অভিযান। এখানে বিভিন্ন বাহিনীর লোকজন আছে। জঙ্গল সলিমপুর এলাকা যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের সিএনজি অটোরিকশার চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোর্স রয়েছে। সোর্সের মাধ্যমে যাতে যেকোন খবর তাদের কাছে পৌঁছে, সে ব্যবস্থা করে রেখেছে। হয়ত কোনোভাবে তারা অভিযানের ব্যাপারে জেনে গেছে।

অভিযানের বিষয়ে বলতে গিয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুরেরই অংশ। ছিন্নমূলের পরেই আলীনগর। ছিন্নমূল যাওয়ার পর আলীনগর ঢোকার আগে রাস্তায় একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। যৌথ বাহিনী এটি সরিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করে সামনে এগিয়েছে। কিছু দূর পরে একটি কালভার্টও ভেঙে ফেলা হয়েছে। কালভার্টটিও আলীনগরের কাছে। পরে কালভার্টের ওই অংশ ইট–বালি দিয়ে ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করেছে।
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন। তাছাড়া এখানে মসিউর গ্রুপ, রিদোয়ান গ্রুপের সন্ত্রাসীরাও আস্তানা গেড়ে রাজত্ব করছে। এদের ছত্রছায়ায় এখানে চট্টগ্রাম শহরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, মামলার আসামিরা বসবাস করছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরাও এখানে আশ্রয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। অভিযান ‘এস ড্রাইভ’ পরিচালনার ফলে নগরের সমস্ত অপরাধী এখন জঙ্গল সলিমপুরে আশ্রয় নিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।