বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আনোয়ারার তিন ট্রলারে জলদস্যু আক্রমণ, একজন গুলিবিদ্ধ

আনোয়ারা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় গহিরা এলাকার তিনটি ফিশিং ট্রলারের জেলেরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার জেলার গভীর সমুদ্র এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্তত ১১ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। জলদস্যুরা ট্রলার তিনটি থেকে জ্বালানি তেল, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গুলিবিদ্ধ মো. মনির (৫৮) আনোয়ারার গহিরা গ্রামের মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই ট্রলারের আরও তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।

এফবি নাজিম উদ্দীন ট্রলারের স্টাফ মো. হাশেম জানান, রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে জাল তুলে ট্রলার নোঙর করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একটি ট্রলার থেকে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে গুলি ছোড়ে। এতে মাঝি মনির গুলিবিদ্ধ হন। পরে জলদস্যুরা ট্রলারে উঠে জেলেদের মারধর করে জ্বালানি তেল, মাছ ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নেয়।

এফবি আল্লার দান ট্রলারের মাঝি মো. হেফাজ জানান, তাদের ট্রলারসহ এফবি কালু শাহ-২ ট্রলারে হামলা চালিয়ে মাঝিমাল্লাদের মারধর ও মালামাল লুট করা হয়।

ঘটনার পরদিন বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এফবি নাজিম উদ্দীন ট্রলার উপকূলের তেলিপাড়া ঘাটে ফিরে আসে। সন্ধ্যায় অপর দুটি ট্রলারও উপকূলে পৌঁছায়।

মাঝিমাল্লাদের দাবি, জলদস্যুরা বাঁশখালী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা। তারা সমুদ্রের মোহনায় ওত পেতে থেকে বিভিন্ন ট্রলারে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি করে থাকে।

এ বিষয়ে বার আউলিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি কক্সবাজার জেলাধীন গভীর সমুদ্র এলাকায় ঘটেছে। তিনটি ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়েছে। একজন মাঝি গুলিবিদ্ধসহ আরও ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও