চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের শেষ কর্মদিবস আজ (২২ ফেব্রুয়ারি)। শেষ দিনেও তিনি ব্যস্ত কর্মসূচি পালনে। শেষ কর্মদিবস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের রায়ে আমি বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র। আদালতের রায়ে শপথ গ্রহণের পর থেকে পাঁচ বছরের জন্য আমার মেয়াদ। আমাকে সরকার ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দিয়েছে, তার মেয়াদও পাঁচ বছর। আজ একটা স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর আমার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২০২৯ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ। তারপরও আমি নির্বাচন চাই।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হালিশহর এইচ ব্লকে পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছর নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না। ১৬ বছরে দুটো নির্বাচন করেছিলাম, সেখানে নির্বাচনের নামে নির্যাতন করা হয়েছে। তারপরও আমি নির্বাচন চাই। তফশিল ঘোষণার পর দল যদি আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করে আমি পদত্যাগ করব।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকায় নির্বাচন হওয়া উচিত, কারণ কাউন্সিলর না থাকাতে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে থাকতে হবে। আমি না থাকলে চালাবে কে। শহরটাতো এতিম হয়ে যাবে। প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসক বদলি করে মেয়র দিয়েছে। মেয়র বদল করে প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবেন। দল যদি আমাকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে, আমি প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি মনে করি, ১৬ বছর জনগণের সঙ্গে খুব ক্লোজলি থেকেছি। জনগণ নির্ধারণ করবে কাকে ভোট দেবেন। তফসিল ঘোষণা হলে যদি দল আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করে পদত্যাগ করবো।
তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মানুষ। ১৬ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি।ফাইট করে এ পর্যায়ে এসেছি। আদালত যে রায় দিয়েছেন তা ঐতিহাসিক। ২০২১ সালে হাত পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দিয়েছিল। আমার এজেন্ট, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে।
মেয়র বলেন, আমি জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই। আমি এখনো জানি না, চট্টগ্রাম শহরে ২২ লাখ ভোটার আছে। আমি এখনো জানি না, আমাকে শহরের ২ লাখ মানুষ চায়, নাকি ১০ লাখ মানুষ চায়। পুরো রাজনীতি করে এটাই হবে আমার প্রাপ্তি কত লাখ মানুষ আমাকে চায়। অথবা আদৌ চায় কিনা। তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট চাই।