রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়নি, করা হয়নি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৭

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সরকার এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, এ ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হননি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেল থেকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।

তবে শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। সে অনুযায়ী পুলিশ নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

সরকার পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিও বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকেরা দেশে উপস্থিত হয়েছেন।

একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বিবৃতিতে। সরকার বিশ্বাস করে, সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।

ভিডিও