,

 

হাসপাতালের রোগ সারবে কে ?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 31 July 2026, 06:27

যে হাসপাতাল রোগীদের নিরাপদ নিশ্চিন্ত চিকিৎসার ঠিকানা। সেই হাসপাতালগুলোই এখন নানা রোগে জর্জরিত। কোনোটিতে নেই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) অনুমোদন। কোনোটিতে নেই রোগীর গাড়ি পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেবার কথা বলা হলেও সেখানে সেবার চেয়ে বাণিজ্যই যেন মুখ্য।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার, পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তার অঙ্গীকার করা হলেও হাসপাতালগুলো তা মানছে না।

নগরীর মেহেদীবাগ ও পাঁচলাইশের মত অভিজাত এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা এমন পাঁচটি রুগ্ন হাসপাতালের তথ্য পেয়েছে চউক।

হাসপাতালগুলো হলো- ন্যাশনাল, ম্যাক্স , এরিস্ট্রোকেয়ার, পপুলার ও ইপিক হাসপাতাল। গতকাল বৃহস্পতিবার সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন হাসপাতালগুলো পরিদর্শনে যান। হাসপাতালগুলোর এসব অনিয়ম দূর করতে চউকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক মাস সময় দেয়া হয়েছে।

চউক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর মেহেদীবাগে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালে রোগীদের জন্য নির্ধারিত গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা ব্যবহৃত হচ্ছে চিকিৎসকদের গাড়ি রাখার জন্য। পার্কিংয়ের অধিকাংশ স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে ফেলা হয়েছে।

মেহেদীবাগে ১০ তলা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক একটি ভবনে চউকের অনুমোদন ছাড়াই এরিস্টো কেয়ার নামে হাসপাতালটি চালুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। নির্মাণে নকশা লঙ্ঘন, পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকা এবং একাধিক কাঠামোগত অসংগতি নিয়ে সিডিএ একাধিকবার নোটিশ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও থামেনি কাজ।

মেহেদীবাগের আরেকটি হাসপাতাল ন্যাশনাল হাসপাতালের চিত্রও ভয়াবহ। আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে সেখানে হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। অনুমোদিত নকশায় ৫০টি পার্কিংয়ের শর্ত থাকলেও বাস্তবে ২৮টির অস্তিত্ব পেয়েছে চউক। বাকি জায়গায় ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের একমাত্র ইমার্জেন্সি ফায়ার এক্সিট সিঁড়িটি বন্ধ হয়ে গেছে ময়লার স্তুপের কারণে। তার মানে অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলে রোগীদের বের হওয়ার কোনো পথই মূলত নেই।

পাঁচলাইশ ইপিক হেলথ কেয়ার হাসপাতালে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে। নকশা বহির্ভূত লিফট, আবাসিক ভবনে অনুমোদন নিয়ে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণ, পার্কিং এলাকায় দোকান ভাড়া দেয়া, ড্রাইভওয়ে না রাখা এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও হাসপাতালটিতে।

পাঁচলাইশের পপুলার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৪০ ফুট খোলা জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করে রেখেছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সংযুক্ত আরেকটি ভবনের অনুমোদিত কোনো নকশাও নেই।

বিষয়টি নিয়ে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, অধিকাংশ হাসপাতাল আবাসিক বা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করছে। হাসপাতাল স্পর্শকাতর জায়গা। এখানে অগ্নি নিরাপত্তা, পার্কিংসহ বিভিন্ন জরুরি ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, হাসপাতালগুলো নিয়ম না মেনেই চলছে। এখানে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সিডিএ’র পক্ষ থেকে সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও