‘চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি বা সরকার অনুমোদিত ব্যবস্থায় শুধু টার্মিনাল পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগ করা হয়, যেখানে দেশি ও বিদেশি উভয় প্রতিষ্ঠানই বিবেচনাযোগ্য।’
বুধবার জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেনের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম একথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই জবাব উপস্থাপন করা হয়।
আগের দিন মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপরাটের নিয়োগ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।
গেল বছর ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে কনটেইনার টার্মিনাল এবং পানগাঁওয়ে নৌ টার্মিনালের দায়িত্ব যে দুই বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, তারা ১০ বছর পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাবে।
চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনিশ কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। একই দিন পানগাঁওয়ের নৌ টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয় সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি মেডলগের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সবাইকে ব্যস্ত রাখার সময় একদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার চেষ্টা হয়েছে, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শাহাদাত বলেন, ‘এটা অসম চুক্তি।’ তার দাবি, ৫১ একর জমি ৪৮ বছরের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে, অথচ এই পরিমাণ বিনিয়োগ করার মতো উদ্যোক্তা বাংলাদেশেই আছে।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের বিধান আছে। সেই কাঠামোয় দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর কাজ করতে পারে।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর দায়িত্ব পালন করছে। আর কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ-পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কভিত্তিক মেয়ার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
নৌমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এটি পরিচালনা করেন। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তও বন্দর কর্তৃপক্ষ অনুসরণ করে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরে নৌমন্ত্রী রবিউল আলম নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন।
শ্রমিকদের আন্দোলন চলার মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চার দিন আগে ৮ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘সরকার রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করছে, প্রাধান্য দিবে।’ চুক্তির বিষয়টি যে অবস্থায় ছিল, এগিয়ে ছিল, সেই অবস্থায় এখনো আছে তুলে ধরে তিনি মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করছি।’