লোহাগাড়ার সাউন্ড হেলথ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন ছালমা আক্তার নামে গর্ভবতী এক নারী।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন। এমন ঘটনায় এলাকায় অভিযুক্ত ওই হাসপাতাল নিয়ে নানামুখী সমালোচনা চলছে।
এমন গুরুতর অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া সাউন্ড হেলথ্ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনোলজিষ্ট জেহেরান হোসাইন বলেন, আমাদের ল্যাবে যে রি-এজেন্ট দিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হতো সেই রি-এজেন্টের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও কেন ভুল রিপোর্ট আসলো সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ রি-এজেন্ট কোম্পানির সাথে কথা বলেছে।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া সাউন্ড হেলথ্ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব ডাইরেক্টর ডাঃ ইশতিয়াকুর রহমান বলেন, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ব্যবহৃত রি-এজেন্ট নিয়ে সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জানানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছি।
ভুক্তভোগী ছালমা আক্তার অভিযোগে জানান, আমি গর্ভবতী হবার পর থেকেই লোহাগাড়া উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল সাউন্ড হেলথ্ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডাঃ মিতালি কর্মকার থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি । ডাক্তার আমার শরীরে রক্ত শুন্যতা রয়েছে এবং শরীরে রক্ত দিতে হবে বলে জানান। রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার জন্য বলেন। সাথে সাথে সাউন্ড হেলথ্ হাসপাতালের ল্যাবে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় পরীক্ষা করানোর জন্য। ওই ল্যাবের পক্ষ থেকে টেকনোলজিষ্ট জেহেরান হোসাইন স্বাক্ষরিত “এবি পজেটিভ” (AB/ positive) একটি রিপোর্ট দেয়া হয়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে লোহাগাড়া রক্তদান গ্রুপের একজন ব্লাড ডোনারকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার লোহাগাড়া সিটি হাসপাতালে এ রক্ত দিতে গেলে সেখানে বাধে বিপত্তি। সিটি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ আমার গ্রুপ “ও পজেটিভ” উল্লেখ করে রিপোর্ট দেয়।আরো নিশ্চিত হবার জন্য পার্শ্ববর্তী মা শিশু হাসপাতালেও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করি। সেখানেও “ও পজেটিভ” শনাক্ত হয় । পরবর্তীতে ২ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে পুনরায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করলে তারাও “ও পজেটিভ” রিপোর্ট দেয়। হাসপাতালের এমন ভুলের দায়ভার কে নেবে? আমি সচেতন না হলে আমার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতো। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
লোহাগাড়া রক্তদান গ্রুপের মডারেটর মোঃ ইয়াছিন জানান, লোহাগাড়ায় অনেক অসহায় মানুষকে বিভিন্ন গ্রুপের রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু এ ধরনের বড় ভুল আর দেখিনি। ছালমার রিপোর্ট অনুযায়ী “এবি পজেটিভ” ডোনার দিয়েছি । পরে জানলাম ছালমার রক্তের গ্রুপ “ও পজিটিভ”। এ ধরনের ভুল হলে রোগীর অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এটি খুবই সংবেদনশীল বিষয়। এই ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। হাসপাতালটিকে আমরা শোকজ করব প্রথমে, এরপর ল্যাব টেকনলজিষ্ট যিনি ছিলেন উনি ডিগ্রীধারী কিনা সেটাও খতিয়ে দেখব এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
ছালমা আক্তার (৩৫), সাতকানিয়া উপজেলার গারাঙ্গীয়া এলাকার বদিউর রহমান সিকদার প্রকাশ বদ সিকদার পাড়ার নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
পূর্বতারা/ইউডি/ ইউসুফ