চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে রাশেদুল আনোয়ার টিপু (২৫) নামে এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় মো. আরমান (২৬) নামের আরও এক যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে একই কক্ষ থেকে একজনের মরদেহ ও আরেকজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধে উঠেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) ফটিকছড়ির ভুজপুর থানাধীন দাঁতমারা হেয়াঁকো বাজারের পল্লী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। রাশেদুল ও আরমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কক্ষে কি করছিলেন ? কক্ষে ঢুকে কেন তালাবদ্ধ করে দিলেন ? একজনের মৃত্যু আরেকজনের অচেতন অবস্থার কারণ কি ?
দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন খাঁন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এ ব্যাপারে পল্লী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসকের সহকারী লক্ষীবালা নম বলেন, সকালে অফিস খুলে দেখি রুমটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাইনি। পরে স্থানীয়দের ডেকে এনে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুজনকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলতে এসে একটি কক্ষ ভেতর থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান কর্মচারীরা। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে লোকজনের সহায়তায় তালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করলে রাশেদুল আনোয়ারকে মৃত অবস্থায় ও আরমানকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হেয়াঁকো জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হেয়াঁকো জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল রুহানী জানান, সকাল ১০টার দিকে দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে রাশেদুল আনোয়ারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত রাশেদুল আনোয়ার স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি হেয়াঁকো বনানী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত আরমান একই এলাকার ব্যবসায়ী আমান উল্লাহর ছেলে।
পূর্বতারা/ ইউডি