মার্চের প্রথম ১২ দিনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য নিয়ে ১৬টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) জানিয়েছে, আরও তিনটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছাবে।
চবক সূত্র জানায়, গত ৩ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে কাতার থেকে আসা তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ- আল জুর, আল জাসাসিয়া ও লুসাইল ইতোমধ্যে তাদের পণ্য খালাস শেষ করেছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে এসেছে। এছাড়া গত ১২ মার্চ আল গালায়েল নামক আরেকটি জাহাজ ২৬ হাজার ১৬৫ টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে জাহাজটি থেকে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে।
অপরদিকে মালয়েশিয়া থেকে আসা মর্নিং জেন ও ওমান থেকে আসা জিওয়াই এমএম ইতোমধ্যে মোট ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি খালাস সম্পন্ন করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজ থেকে এখন কার্গো খালাস করা হচ্ছে। এর আগে ৮ মার্চ ওমান থেকে আসা এলপিজি সেভান ৭ হাজার ৫০০ টন এলপিজি খালাস করছে, যা ৩০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে এলএনজি ও এলপিজি ছাড়াও বেশকিছু জাহাজ পরিশোধিত জ্বালানিপণ্য ও শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ট্যাঙ্কার বে ইয়াসু নিয়ে এসেছে মনোইথিলিন গ্লাইকল (এমইজি)। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর থেকে আসা এল্যান্ড্রা স্প্রুস ও হাফনিয়া ববক্যাট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প বয়লারে ব্যবহৃত উচ্চ মাত্রার সালফারযুক্ত ফার্নেস অয়েল খালাস করেছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে আসা গ্যাস অয়েল ট্যাঙ্কার শিউ চি ও লিয়ান হুয়ান হু এবং মালয়েশিয়া থেকে আসা এসপিটি থেমিস ডিজেল-জাতীয় জ্বালানি নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সূত্রমতে, এসব জাহাজ সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি বহন করে এনেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আসা তেলবাহী জাহাজ অ্যাঞ্জেল ১১ লুব্রিকেন্ট উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল বেজ অয়েল নিয়ে এসেছে প্রায় ৪ হাজার টন।