শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

লোহাগাড়ায় তামাকের আগ্রাসন, হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৯

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ক্ষতিকর তামাক চাষের আগ্রাসন ক্রমেই বাড়ছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিভিন্ন প্রলোভনে পড়ে কৃষকেরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে একদিকে কৃষিজপণ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার টংকাবতী ও ডলু নদীর চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত এলাকায় তামাক চাষের বিস্তার ঘটেছে। কালাউজান ইউনিয়নের পূর্ব কালাউজান ও টংকাবতী বনবিট সংলগ্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি তামাক চাষ দেখা গেছে। এছাড়া চুনতি ইউনিয়নের কিল্লাখোলা ও পানত্রিশা, বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ঘোনার মোড় ও পল্লানের বিল, চরম্বা ইউনিয়নের বায়ারপাড়া ও রাজঘাটা এবং পুটিবিলা ইউনিয়নের পহর চাঁদা ও পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা এলাকাতেও ব্যাপকভাবে তামাক চাষ হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় ঋণের বোঝা বহন করতে হয়। এ অবস্থায় বিভিন্ন তামাক কোম্পানির দেয়া প্রলোভন ও সহযোগিতার কারণে অনেক কৃষক তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

চরম্বার রাজঘাটা এলাকার তামাক চাষী মো. বেলাল বলেন, ‘অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে সরকারি সহযোগিতা খুব একটা পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় ঋণের বোঝায় পড়তে হয়। কিন্তু তামাক চাষে কোম্পানিগুলো আগাম সহায়তা দেয়, তাই অনেকেই এ চাষে ঝুঁকছেন। অন্য ফসলেও যদি এ ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যেত, তাহলে তামাক চাষে আসতে হতো না।’

তামাক চাষের পাশাপাশি তা পোড়ানোর জন্য অনেক কৃষক বাড়ির আশপাশে চুল্লি তৈরি করেছেন। এসব চুল্লিতে পোড়ানোর কাজে বনের কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর লোহাগাড়ায় ১৬ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে তা কমে ১৩ হেক্টরে নেমে এসেছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, যে জমিতে তামাক চাষ হয়, সেখানে পরবর্তীতে অন্য ফসলের ফলন তুলনামূলকভাবে কম হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, তামাক ব্যবহার মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই তামাক উৎপাদন ও ব্যবহার কমাতে জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন কোম্পানির প্রলোভনে কৃষকরা তামাক চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে কৃষকদের তামাক চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করতে বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কৃষকেরা সচেতন হলে ভবিষ্যতে এ চাষ থেকে সরে আসবেন বলে আশা করছি।’

ভিডিও