বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুর অভিযানে ১৫ জন আটক ও অস্ত্র উদ্ধার

সাজ্জাদ-ইয়াসিন-মসিউরের ডেরায় কামড়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০৪

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক ও কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ বাহিনী, ইয়াসিন বাহিনী, মসিউর বাহিনী, রোকন বাহিনী ও রিদোয়ান বাহিনীর ডেরা ভেঙে দেওয়া।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ’র এডিশনাল ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, বিভিন্ন মামলার আসামি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছি। জঙ্গল সলিমপুর একটি দুর্গম এলাকা। এখানে সন্ত্রাসীরা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সোর্স নিয়োগসহ নানাভাবে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে রেখেছে। যেহেতু এটি বড় অভিযান তাই পুরো অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য দেয়া যাচ্ছে না। এখানে বিভিন্ন সেক্টরে যৌথ বাহিনীর টিম দায়িত্ব পালন করছেন।

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ করে সন্ত্রাসীরা ফিরে আসে জঙ্গল সলিমপুরে তাদের আস্তানায়। সন্ত্রাসীরা এখান থেকেই চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ সব ধরণের অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগর জুড়ে পুলিশের ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান চলার কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধীরা নগর ছেড়ে জঙ্গল সলিমপুরেই অবস্থান নিয়েছে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে এই পাহাড়ি এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের জন্য কঠিন ও কষ্টসাধ্য। আবার পাহাড়ে-জঙ্গলে আত্মগোপন থাকা, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া এখানে অনেকটাই সহজ। তাই সন্ত্রাসীদের পছন্দের এলাকা জঙ্গল সলিমপুর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত অনেক সন্ত্রাসী বর্তমানে এখানেই বসবাস করছেন।

তবে পাকাপাকি ভাবে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর গ্রুপে রোকন উদ্দিন। দুই গ্রুপের মধ্যে ইয়াসিন গ্রুপকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এলাকার বেশিরভাগ অংশ তাদের দখলে রয়েছে। ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন। তবে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িতও নন।

চট্টগ্রাম শহর থেকে জঙ্গল সলিমপুরে যেতে সময় লাগে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট। বায়েজিদ লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়ি রয়েছে, যেখানে অন্তত এক থেকে দেড় লাখ নানা শ্রেণি পেশাজীবী সাধারণ মানুষের বসবাস। বাসিন্দাদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে বসতি গড়েছেন।

 

ভিডিও