কামাল উদ্দিন আর তার স্ত্রী তসলিমা আক্তার ঈদের কেনাকাটা করতে পতেঙ্গা থেকে এসেছিলেন নিউমার্কেটে। নানা জিনিস কিনেছেন স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে স্ত্রীর পছন্দের একজোড়া জুতা নিয়ে। তসলিমার বায়না জুতা জোড়া তাকে কিনে দিতে হবে। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য সীমিত হওয়ায় কামাল তার স্ত্রীকে ওই জুতা জোড়া কিনতে বারণ করেন। আর এ নিয়েই ঝগড়া শুরু স্বামী-স্ত্রীর। এক হাট মানুষের মাঝে স্বামীকে নানা কটু কথায় অপমান করতে থাকে তসলিমা।
একপর্যায়ে অপমান সইতে না পেরে আনারস বিক্রেতার ভ্যান থেকে ছুরি নিয়ে নিজের গলায় নিজেই চালিয়ে দিলেন কামাল। কামালের রক্তে ভিজে যায় নিউমার্কেটের মোড়। টহলরত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে ফেসবুকে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
রীতিমত ভাইরাল হয়ে যাওয়া এ ঘটনার আসল সত্য ভিন্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১টার সময় চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট এলাকায়। ওই যুবকের আত্মহত্যার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আফতাব উদ্দিন।
তবে স্ত্রীকে পছন্দের জুতা কিনে দিতে পারায় ঝগড়া করে আত্মহত্যা করার যে গল্প ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে তা সত্য নয় বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এস এম রিদুয়ান জানান, কামাল যখন আনারসের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে নিজের গলায় চালান, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে খবর দেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত তিনি সাথে ছিলেন।
তিনি বলেন, “কামালের সাথে কোনো নারী ছিল না। ফেসবুকে যে গল্প ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার জানান, রাত ৮টার দিকে কামাল তার ভাগিনা সামাদের কাছ থেকে হাতখরচের কিছু টাকা নেন। এরপর তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান এবং পতেঙ্গা এলাকায় আর দেখা যায়নি। পরে ভোরে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
কামালের ভাগিনা সামাদ বলেন, “আমার মামা রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। আমরা তার চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুদিন ভালো থাকলেও পরে আবার সমস্যা দেখা দিত।”
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পুলিশ জানায়, নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।