শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২১

বছরের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম নগরীতে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দিনে ও রাতে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ঝাঁকে ঝাঁকে মশার আক্রমণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মশক নিধনে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু রয়েছে এবং চলতি বছরও তা অব্যাহত আছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, প্রচার থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় পরিচ্ছন্নকর্মী ও ফগার মেশিনের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে এসেও নগরীর বড় অংশে মশা নিধনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দিনভর মশার যন্ত্রণার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক এলাকায় গত কয়েক মাসে একবারও ফগার মেশিন দেখা যায়নি বলে জানান তারা। ভরাট নালা-নর্দমা দ্রুত পরিষ্কার না করা হলে আসন্ন বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ১ ডিসেম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এই ওষুধ প্রয়োগ শুরু হয়। কর্মকর্তাদের দাবি, একবার প্রয়োগে এটি প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে এবং ৯৮–৯৯ শতাংশ মশার লার্ভা ধ্বংসে সক্ষম। তবে পুরো নগরীতে একযোগে প্রয়োগের মতো সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি।

চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা সরফুল ইসলাম (মাহি) জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফগার মেশিন ও ২০০ পরিচ্ছন্নকর্মী মশক নিধনে কাজ করছেন। তবে ৬০ বর্গমাইলের বেশি আয়তনের নগরীতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জন্য এই জনবল ও সরঞ্জাম অপর্যাপ্ত বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সাধারণত এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সময় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে গত বছর প্রায় সারা বছর বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপও দীর্ঘস্থায়ী ছিল। তিনি জানান, বৃষ্টির আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ভিডিও