হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটিতে বিস্ফোরণের পাঁচদিন হয়ে গেলো আজ। দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে পরপারে চলে গেলেন ৫টি তরতাজা প্রাণ। অথচ এখনো পর্যন্ত এ বিস্ফোরণের আসল কারণ কী ? কিভাবে ঘটল এত বড় বিস্ফোরণ ? এসব প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর কেউ খুঁজে পায়নি। এ নিয়ে সংস্থাগুলো যে যার মত করে মন্তব্য করে যাচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে, এ বিস্ফোরণের রহস্য নিয়ে জিজ্ঞাসা বাড়ছে ।
বিস্ফোরণ পরবর্তী বিভিন্ন সরকারি সংস্থা প্রতিনিধির ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রেক্ষিতে জানা যায় , হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলার সেই ফ্ল্যাটে থাকা কাঁচের তৈরি অ্যাকুরিয়ামটি একেবারে অক্ষত। মাছগুলোও জীবন্ত। পুরো ফ্ল্যাটের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছাড়া বাকি সবকিছু স্বাভাবিক। রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগার কথা বলা হলেও সেখানে বার্নারটি অক্ষত। বাসন-কোসনসহ যাবতীয় তৈজসপত্রগুলোতেও নেই আগুনের চিহ্ন। লিফট থেকে বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও সেখানে দেখা যায়নি আলামত। তাহলে বিস্ফোরণের ক্লু কি ? কোথা থেকে কিসের কারণে ঘটল এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ- সেটিই এখন ভাবনার বিষয়।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (উত্তর) মো. রফিক খান বলেন, এটা গ্যাসের না হয়ে অন্য কিছু হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। রাইজারে কোনো লিকেজ ছিল না। সেটা আমি দেখেছি। আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আবার এ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স’র উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দীনের বলছেন, আমরা নানা বিষয় বিবেচনায় রেখে তদন্ত করছি। এমন অনেক পদার্থ আছে যেগুলো স্পার্কে বিস্ফোরিত হয়। তবে কি কারণে এ বিস্ফোরণ হয়েছে তা তদন্তের পর সঠিক জানা যাবে।
আবার এ নিয়ে একেবারে বিপরীত বক্তব্য পুলিশের। তারা বলছেন, ঘটনাস্থলে বিস্ফোরকের কোনো আলামত পাননি তারা।
এ ব্যাপারে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, ঘটনাস্থলে বিস্ফোরক দ্রব্যের কোনো আলামত পাইনি। গ্যাস থেকে বিস্ফোরণটি হতে পারে।
আবার স্থানীয়রা বলছেন, ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন পেশায় মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি এসি, ডেন্টিং,পেইন্টিংয়ের কাজও করতেন। যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে এসি পাম্প, এসির কিছু ইউনিট ও একটি প্লাস্টিকের ড্রাম পড়ে আছে। বাসাটিতে ব্যাটারিও ছিল।সেটিও বিস্ফোরিত হয়েছে বলে তাদের ভাষ্য।
গত সোমবার ভোরে নগরীর হালিশহর হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলার একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ফ্ল্যাটের ৯ সদস্য দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন মারা গেছেন। অন্যদের শারীরিক অবস্থাও সংকটাপন্ন। তারা ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।