বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

গ্যাসের লাইন নয়, যেন সাক্ষাৎ যমদূত!

উজ্জ্বল দত্ত

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৭

গ্যাস আর মানুষ আজ একে অপরের পরিপূরক। গ্যাসের উপরই দাঁড়িয়ে আছে দৈনন্দিন জীবন, উৎপাদন, শিল্প, পরিবহন সবকিছু। তবে যে গ্যাসের উপর জনজীবনের এত নির্ভরতা, সেই গ্যাসের সরবরাহ লাইনগুলো যেন সাক্ষাৎ যমদূত ! সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে ঘটছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। অগ্নিদগ্ধ হয়ে অকালে ঝরে যাচ্ছে নিরীহ প্রাণ। আচমকা ঝড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে সাজানো সংসার, সাজানো স্বপ্ন।

তেমনি একটি সাজানো সংসার ছিল সাখাওয়াতের। হালিশহর হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটিতে তারা তিন ভাই সুখেই ছিলেন। কিন্তু গ্যাসের বিস্ফোরণে মুহুর্তেই তছনছ হয়ে গেছে তাদের সাজানো সংসারটি। পরিবারের ৯ সদস্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ জন মারা গেছেন। বাকিরা ঢাকার বার্ন ইন্সটিটিউটের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

এ ব্যাপারে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’র মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সৈয়দ আবু নসর মো. সালেহ দৈনিক পূর্বতারা’কে বলেন, গ্যাসের সংযোগ লাইন মনিটরিংয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে আমাদের ১৭টি টিম কাজ করছে। টিমগুলো স্ব স্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় গ্যাস লাইনগুলো নিয়মিত মনিটরিং করছেন। হালিশহর এলাকাতেও আমাদের টিম কাজ করছে। তবে দুঃখজনক, যে ভবনটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেটিতে আমাদের মনিটরিং টিম সাম্প্রতিক সময়ে যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মনিটরিং টিমেরও ব্যস্ততা আছে। তারা হয়ত অন্য ভবনে কাজ করতে ব্যস্ত ছিলেন। দুঃখজনক এর মধ্যেই ভবনটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিস্ফোরণ বাসার বার্নার থেকে নির্গত গ্যাস জমে গিয়ে ঘটেছে। তারপরও হালিশহরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে।

গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নানামুখী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। গ্যাস ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ, রাতে ঘুমানোর আগে বার্নার চেক করুন। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আমাদেরকে অবহিত করুন।

চলতি ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটনা

২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহরে হালিমা মঞ্জিলের একটি ফ্ল্যাটে গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন। এ ঘটনায় ৩ জন মারা গেছেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন অগ্নিদগ্ধ হন। যাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার বলিরহাট এলাকায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দুটি সেমি-পাকা ঘর ভেঙে পড়ে শিশুসহ ৮ জন আহত হন।

কেজিডিসিএল’র তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (KGDCL) অধীনে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ২ হাজার ৩৭৫টি বৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৫টি গৃহস্থালি, ১ হাজার ১২৭টি শিল্প, ১৯০টি ক্যাপটিভ পাওয়ার, ২ হাজার ৮৬২টি বাণিজ্যিক, ৭০টি সিএনজি স্টেশন ও ২টি চা-বাগান রয়েছে।

ভিডিও