চট্টগ্রামে শীত জেঁকে বসেছে। কনকনে শীতের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রামে সকাল ও রাতের দিকে কুয়াশা এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কর্মজীবী মানুষ গরম কাপড় ও মাফলার জড়িয়ে বের হচ্ছেন। শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকায় কুয়াশার কারণে দূরের ভবন ও গাছপালা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ভোরের দিকে যানবাহন চলাচলেও ছিল ধীরগতি, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও রিকশাচালকেরা পড়েছেন বেশি ভোগান্তিতে।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট চোখে পড়ার মতো। ভাসমান শ্রমিক, দিনমজুর ও পথশিশুরা খোলা আকাশের নিচে শীতের সঙ্গে লড়াই করছেন। কোথাও আগুন জ্বালিয়ে গা গরম করার চেষ্টা, আবার কেউ পুরোনো কম্বলের ভেতর গুটিসুটি হয়ে বসে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি শীত মৌসুমে কুয়াশার ঘনত্ব আগের তুলনায় বেশি। সূর্যের আলো কম থাকায় দিনের বেলাতেও ঠান্ডার অনুভূতি রয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে দেশে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। এর বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করায় চট্টগ্রামেও এর প্রভাব পড়ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল বলেন, সাধারণত উত্তরাঞ্চলের তুলনায় চট্টগ্রামে শীত কম অনুভূত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন কুয়াশার প্রবণতা বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বৃদ্ধি, বাতাসের গতিপথে পরিবর্তন এবং উত্তর দিকের শীতল বায়ু একসঙ্গে কাজ করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শীতের অনুভূতিও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে দরিদ্র, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের ওপর, যাদের জন্য শীত বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।