চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের দৌলত মুন্সির হাটে শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাত সাড়ে চারটার দিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং আরও দুইটি দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী খোরশেদ অভিযোগ করে বলেন, শত্রুতা বসত তার দোকানের পেছন দিকের জানালা দিয়ে আগুন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তার কীটনাশক, সার ও বীজের দোকানের প্রায় ৬৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, দোকানের আশপাশে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি ছিল না। এটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ।
খিরাম বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সায়েম জানান, রাত আনুমানিক চারটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন দোকানগুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সহায়তায় শ্যালো মেশিনের পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে মাহবুরের কাঁচা তরকারির গুদাম, খোরশেদের কীটনাশক, সার ও বীজের দোকান এবং রুবেলের সেমিপাকা টেইলার্সের মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া বেলালের তরকারির গুদাম ও ডা. চন্দনের ফার্মেসি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর থেকে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।