চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সারোয়াতলী খিতাপচর গ্রামে মাটির পথ ধরে এগোলে চোখে পড়ে সারি সারি সবুজ কুল গাছ। গাছে ঝুলছে থোকা থোকা কুল, আর বাতাসে দুলছে দুই তরুণ ভাইয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। তানভিরুল হক ইমন ও সাইদুল হক তুহিন—চাকরির পিছনে না ছুটে বাবার ফেলে রাখা অনাবাদি জমিকে ধরেই নতুন জীবন খুঁজেছেন। ২০২০ সালে মাত্র ৭০টি কুল গাছের চারা নিয়ে তারা শুরু করেন। তখন চারপাশে অনেকেই সন্দেহ করতেন, পতিত জমিতে ফলের বাগান সফল হবে কি না।
পাঁচ বছর পর সেই সন্দেহ মিটেছে। এখন তিন একর জমিতে ৪৬৫টি কুল গাছের বাগান। এখানে আছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, কাশ্মীরি ও আপেল কুল। এছাড়া আশপাশে ছড়িয়ে আছে আম, লিচু, পেয়ারা ও মাল্টার বাগান। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে পরিকল্পিত ফলের খামার।
প্রতি দিন ভোর থেকে দুই ভাই ব্যস্ত থাকেন কুল তোলায়। দিনে বিক্রি হয় ২৫০–৩০০ কেজি কুল, প্রতি কেজি দাম ১০০ টাকা। ইমন বলেন, ছাত্র থাকতেই ভাবতাম বাবার জমিগুলো পড়ে থাকবে কেন? কৃষি অফিসের পরামর্শে সাহস পেলাম। ছোট পরিসরে শুরু করেছিলাম, এখন আল্লাহর রহমতে বাগানটাই জীবনের ভরসা।
তারা বাইরের রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে নিজেরা জৈব সার বানান। এ বছর কুল বাগানে খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা, অথচ দুই মাসে বিক্রি থেকে আয় হতে পারে ১২ লাখ টাকার বেশি। ভাই তুহিন বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু গাছ কখনো বেঈমানি করে না, যত্ন নিলে ফিরিয়ে দেয়।
বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, এই বাগান শুধু দুই ভাইয়ের সাফল্য নয়, এটি অনাবাদি জমিকে ফলদায়ী করার উদাহরণ। জোয়ার-ভাটার লবণাক্ত পানির কারণে এই এলাকায় অনেক জমি অনাবাদি থাকে। কুল বাগান দেখিয়েছে গ্রামে লুকিয়ে আছে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ।