রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রশাসনের অভিযান

বাঁশখালীতে মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি

বাঁশখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৫

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পূর্ব পুঁইছড়ি ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি ও পাহাড়ি ভূমি কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করে আসছিল একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। রাতের অন্ধকারকে ঢাল করে তারা লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপার্জন করলেও দীর্ঘদিন কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। অবশেষে এলাকাবাসীর অভিযোগে প্রশাসন নির্ঘুমে অভিযান চালিয়ে মাটি খেকোদের তৎপরতায় বড় ধাক্কা দেয়।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার পূর্ব পুঁইছড়ির বশিরা বাপের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পাহাড়ি ছরার বাঁধ কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ ওঠে জয়নাল আবেদীন, জসিম উদ্দিন ও সামিউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযানের খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় অর্ধশতাধিক মানুষ জানান, স্কেভেটর মালিক সামিউদ্দিন, ডাম্পার মালিক ফরহাদ চৌধুরী, নজরুল ড্রাইভার, ছিদ্দিক, ও ভেট্টু ড্রাইভারসহ একদল চক্র নিয়মিত রাতের বেলায় স্কেভেটর ও ডাম্পার ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়। নাপোড়া বাজার, প্রেমবাজার, চাম্বল বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের সোর্স থাকায় প্রশাসন পৌঁছানোর আগেই চক্রটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হতো।

পাহাড়ি পরিবেশ ও কৃষিজমির ভয়াবহ ক্ষতির পরও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মুখ খুলতে পারেনি নিরাপত্তাহীনতার কারণে। তবে এসিল্যান্ড ওমর সানী আকনের রাতভর অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্য— এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে কোনো চক্র আর কৃষিজমি বা পাহাড় ধ্বংস করতে সাহস পাবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন বলেন, ‘অপরাধীরা যতই শক্তিশালী হোক, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ভিডিও