রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

৩৪ বছর পর লোহাগাড়ার সন্তানকে বিএনপির প্রার্থী, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২১

চট্টগ্রাম–১৫ আসন (লোহাগাড়া উপজেলা এবং সাতকানিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন) থেকে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ঘোষিত দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়ন তালিকায় এ আসনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন।

১৯৯১ সালের পর এই আসনে লোহাগাড়া বা সাতকানিয়ার কোনো স্থানীয় বিএনপি নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটায় দুই উপজেলার নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে লোহাগাড়ায় দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে খুশির জোয়ার বইতে দেখা গেছে। যদিও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে প্রকাশ্যে আনন্দ মিছিল হয়নি, তবুও অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নেতা-কর্মীরা।

রাজনৈতিক সচেতনমহলের মতে, বহু বছর ধরে স্থানীয় প্রার্থী না পাওয়ায় জনগণের মধ্যে যে হতাশা ছিল, নাজমুল মোস্তফা আমিনের মনোনয়ন তা অনেকটাই দূর করবে। দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও তাঁর পক্ষে ইতিবাচক সাড়া মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিহাস অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে লোহাগাড়া উপজেলা থেকে আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, তবে তারা লোহাগাড়া বা সাতকানিয়ার বাসিন্দা ছিলেন না।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‌‘চট্টগ্রাম–১৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। লোহাগাড়ার ছেলে নাজমুল মোস্তফা আমিন একজন সংগঠিত, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁর প্রার্থীতায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।’

আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস.এম. সাহাব উদ্দীন বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতিচ্ছবি নাজমুল ভাইকে প্রার্থী করায় নেতাকর্মীরা মহাখুশি।’

দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ‘এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; লোহাগাড়া–সাতকানিয়ার বিএনপি নেতা-কর্মীদের সম্মিলিত অর্জন। আমি অবশ্যই দুই উপজেলার স্বার্থে সমানভাবে কাজ করবো।’

ভিডিও