রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ সচেতনতায় ‘প্লাস্টিকের দৈত্য’

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৩

সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা সীগাল পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে পরিত্যক্ত সামুদ্রিক প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ভয়ংকর এক ‘প্লাস্টিকের দৈত্য’।

জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় তৈরি এই ভাস্কর্য বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল আলম এবং বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন লাখো পর্যটক কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করতে এসে সাগরে ও সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলছেন। এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মানবজীবন হুমকির মুখে পড়ছে। দূষণ রোধে সচেতনতা তৈরি করতে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাস্কর্যটি নির্মাণে প্রায় ৬ মেট্রিক টন ওসান প্লাস্টিক ব্যবহার হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিল্পীরা এটি তৈরি করেছেন। শিল্পীদের দাবি, ওসান প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক ভাস্কর্য।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, গত চার মাসে কক্সবাজার, ইনানি ও টেকনাফের সৈকত থেকে প্রায় ৮০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর একটি অংশ দিয়ে তৈরি হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’। পুরো পর্যটন মৌসুমে ভাস্কর্যটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এছাড়া তিন মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী, পথনাটক ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “দূষণরোধে জেলা প্রশাসন সবসময়ই এমন উদ্যোগের পাশে আছে। আশা করি, প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহারে আরও সচেতন হবে।”

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, সরকারের পরিবেশ নীতি অনুসরণ করে সারাদেশে স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করা হয়েছে এবং কক্সবাজারে ছয় মাসব্যাপী কার্যক্রম চলবে।

ভিডিও