সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

সন্দ্বীপের ৩৪ জেলে পরিবার পেল সরকারি সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৩

চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার পর মাছ ধরা বন্ধ হয়ে জীবিকার সংকটে পড়া ৩৪ জেলে পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন, বিদ্যুৎ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

শনিবার সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ ও ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। মোট ৩৪ পরিবারকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১.৩৬ টন চাল দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাগত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বক্তব্যে প্রধান অতিথি ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘জ্ঞান–বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জেলেদের মাছ ধরার পদ্ধতি আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ছেলে–মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে পরিবারকে এগিয়ে নিতে হবে।’

উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘তিনি বিদেশে পড়েছেন, পড়িয়েছেন। তাঁর লেখা বই বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। তিনি এই এলাকার সন্তান—আপনাদের সন্তানরাও অক্ষম নয়; এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘গত ২৪ তারিখে উপদেষ্টা স্যার আমাকে ফোন করে জেলেদের সমস্যার কথা জানান। ফেরি চলাচলের কারণে তারা মাছ ধরতে পারছেন না। বিষয়টি জানার পরই আমরা দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা করি।’

তিনি আরও জানান, ইউএনওর মাধ্যমে জালের অপসারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪ জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে— এ তথ্য পাওয়ার পর ২৫ তারিখেই সরকারি বরাদ্দের জিও জারি করা হয়।

ডিসি বলেন, ‘আমাদের মাছ একটি সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় কখনো কখনো চ্যালেঞ্জ আসে। ভবিষ্যতেও আপনাদের যে কোনো দাবি–দাওয়া শোনার এবং সহযোগিতা করার জন্য প্রশাসন পাশে থাকবে।’

হারামিয়া ইউনিয়নের রতি দাস বলেন, ‘ডিসি স্যার আমাদের কথা শুনেছেন। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলেছেন। ভবিষ্যতেও সহায়তা থাকবে বলেছেন। তাঁকে খুব ভালো মানুষ মনে হয়েছে।’

সন্দ্বীপ–বাঁশবাড়িয়া রুটে ফেরি সার্ভিস চালু হয় ২৪ মার্চ ২০২৫। ফেরির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চ্যানেল এলাকায় সাময়িকভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে এবং স্থায়ী জাল অপসারণ করে। ফলে সনাতন জেলে সম্প্রদায়ের বহু পরিবার প্রধান জীবিকা হারিয়ে আট মাস ধরে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় ছিল।

মানবিক দিক বিবেচনায় শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪ জেলে পরিবারকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে— ফেরি চলাচল, জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ভিডিও