চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে ভুয়া আসামী উপস্থাপনের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে একজন আইনজীবী ও একজন ভুয়া আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. নবীউল আলম গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় অ্যাডভোকেট মোস্তাকিম বিল্লাহ রাকিব ও আত্মসমর্পণকারী ভুয়া আসামি হেলালের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
পারিবারিক আদালতের বেঞ্চ সহকারী নবীউল আলম জানান, পারিবারিক আদালতে মামলার মূল আসামি মো. পারভেজের পক্ষে আইনজীবী মোস্তাকিম বিল্লাহ রাকিবের জুনিয়র অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করলে মূল আইনজীবী দাবি করেন, আদালতে উপস্থিত ব্যক্তি পারভেজ নন, বরং তার নাম হেলাল। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ভুয়া আসামী উপস্থাপন নিশ্চিত হয় এবং আদালত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৬ নভেম্বর বিচারক নুরুল্লাহ সিদ্দিকীর আদালতে আসামি পারভেজ রায় বাবদ এক লাখ টাকা জমা দিয়ে জামিন আবেদন করেন। রায়ের ডিগ্রিকৃত অর্থ কম হওয়ায় আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরপরই আইনজীবী রাকিব দাবি করেন আদালতে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি আসল আসামি নন, বরং দমকারবাড়ি, কদলপুর, রাউজানের হেলাল নামে এক ব্যক্তি।
এ ঘটনায় আইনজীবী রাকিব আরও দাবি করেন, তার অজান্তে জুনিয়র অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার দরখাস্ত উপস্থাপন করেছেন। আদালত বিষয়টি ‘ভুল ব্যক্তি উপস্থাপন’ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা দুই দিনের মধ্যে জানাতে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোতোয়ালি থানাকে আইনজীবী ও ভুয়া আসামির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আদালত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে অ্যাডভোকেট মোস্তাকিম বিল্লাহ রাকিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনার অনুলিপি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।