পড়া না পারায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু হাফেজকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ফটিকা এলাকায় অবস্থিত বায়তুল কুরআন মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন শিক্ষার্থী হোসেন বিন তৈয়ব (১৫)। গত ১৫ জুন সকালে তৈয়ব ক্লাসে প্রধান শিক্ষক হাফেজ কামালের কাছে সবক (পাঠ) শুনাচ্ছিল। এ সময় সামান্য ভুল হওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, ওই দিনের ঘটনার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। পরবর্তী দুই দিন ধরে শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন স্থানে তাকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি স্থানে রক্তক্ষরণ হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হোসেন বিন তৈয়ব জানায়, সবক দেয়ার সময় সামান্য ভুল হওয়ায় তাকে কোনো ব্যাখ্যা বা সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে বারবার মারধর শুরু করা হয়। কয়েকবার তাকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ভয়ে মাদ্রাসা ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে।
শিক্ষার্থীর মা কোহিনুর সুলতানা বলেন, ছেলে প্রথমে ফোন করে মারধরের কথা জানালে আমি তাকে সান্ত্বনা দিই। কিন্তু পরদিনও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে কোনোভাবে ছেলে বাড়িতে ফিরে এলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণ দেখতে পাই। এরপর তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই।
তিনি আরও বলেন, মারধরের কারণে আমার ছেলের মুখমণ্ডল ফুলে গেছে। সে স্বাভাবিকভাবে খাবারও খেতে পারছে না। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ভবনের কেয়ারটেকার আজিজুর রহমান বলেন, হোসেন বিন তৈয়বের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা ভবনে বসবাস করে আসছে। একদিন হোসেনের মা তাঁকে এসে বলেন যে, মাদ্রাসার শিক্ষক কামাল হুজুর তাঁর ছেলেকে নির্মমভাবে শরীরে আঘাত করেছে। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত শিশুটির বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। পরে তিনি শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসা শেষে শিশুটির প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় সংগ্রহ করতে তিনি ও শিশুটির মা মাদ্রাসায় যান। তবে শিশুটিকে নিয়ে আসার সময়ও অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি কোনো ধরনের সহানুভূতি, অনুশোচনা বা সান্ত্বনা প্রকাশ না করে বরং রাগান্বিত দৃষ্টিতে শিশুটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ কামাল বলেন, ছেলেটি পড়া না পারায় তাকে একটু শাস্তি দিয়েছি। বিষয়টি তার বাবাকেও জানিয়েছি। পরে তার মা এসে তাকে নিয়ে গেছে।
পূর্বতারা/ইউডি