রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চসিকে আইইবি লবি, বিতর্কে মেয়র

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১১:৫৯

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত প্রকৌশলীদের পদোন্নতি, দায়িত্ব বণ্টন ‍ও সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে পেশাজীবী সংগঠন ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) অদৃশ্য শক্তি হিসেবে প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি চসিকের অর্গানোগ্রামে চাকরির যোগ্যতা হিসেবে আইইবি’র সদস্যপদ বাধ্যতামূলক শর্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি সংস্থাটিতে কয়েকজন প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে আইইবি’র একটি গোষ্ঠী মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের কাছে সুপারিশ নিয়ে আসলে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। এক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে পদোন্নতি দেয়ার জন্য মেয়রের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন বিভাগে কর্মরত প্রকৌশলীরা।

এই প্রসঙ্গে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আইইবির কয়েকজন সদস্য ও নেতা আমার কাছে এসে চসিকে কর্মরত তাঁদের কিছু সদস্যের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। কাজের গতি বাড়াতে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হতেই পারে। তবে চসিক সম্পূর্ণ নিজস্ব নিয়ম ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে, এখানে বাইরে থেকে কারও প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই।”

চসিক সূত্রে জানা গেছে, চসিকের নিজস্ব ‘সার্ভিস রুল’ অনুযায়ী কোনো পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির বিষয়টি আগে বিবেচনা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আইইবির প্রভাবে সেই জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দেশের অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে (যেমন এলজিইডি বা ওয়াসা) সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেবল ‘বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিগ্রিই মূল ও চূড়ান্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চসিকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে আইইবির সদস্যপদ যুক্ত করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চসিকের সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিকের সময়ে চসিকের চাকরিবিধি ও অর্গানোগ্রামে কৌশলে এই ‘আইইবি সদস্যপদ’-এর শর্তটি যুক্ত করা হয়েছিল। এই নিয়মের কারণে আইইবির সঙ্গে যুক্ত নন—এমন অনেক মেধাবী প্রকৌশলী চসিকে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রতিযোগিতা থেকে শুরুতেই ছিটকে পড়ছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, আমার জানামতে গ্র‍্যাজুয়েট প্রকৌশলীরা সবাই প্রায় আমাদের সম্মানিত সদস্য। আমরা মূলত তাঁদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও ন্যায্য অধিকার নিয়ে কাজ করি। তাছাড়া আমাদের কোনো সদস্য প্রশাসনে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হলে, তাঁর সমস্যা নিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতেই পারি। প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের আমরা বোঝানোর চেষ্টা করি, একে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বলা ভুল হবে। এর বাইরে চসিকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আমাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো আইনি সুযোগ নেই।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও