রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি সরাতে চট্টগ্রামে রেলওয়ের আগাম সতর্কতা, মাইকিং

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৫

চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে ওঠায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের শঙ্কা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক মাইকিং শুরু করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

রবিবার (৩ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ নগরীর পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ ও সিআরবি এলাকার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে গিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী–২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ, সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে মাইকিং করেছি।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনায় কয়েক হাজার পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। সবচেয়ে বেশি বসতি ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ জানিয়েছে, শুধু ফয়’স লেক এলাকার ঝিল পাহাড়েই চার হাজারের বেশি পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া মতি ঝরনা, বাটালি হিল, বিজয় নগর এবং ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। রেলওয়ের মালিকানাধীন ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরীর জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ১২৭ জনের মৃত্যুর পর ৩৬ দফা সুপারিশ দিয়েছিল তদন্ত কমিটি। এর ১০ বছর পর ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যুর পর ৩৫ দফা সুপারিশের মধ্যেও একই ধরনের সুপারিশ ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হলে কিছু লোকজনকে সাময়িক সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কার্যত কোনো সুপারিশই বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১ নম্বর ঝিলে পাহাড়ধসে মারা গিয়েছিলেন একই পরিবারের দুজন।

ভিডিও