চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি ২০ হাজারের বেশি পোশাক জব্দ সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিন জালিয়াতির মাধ্যমে কারামুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান আসামি সাহেদুল ইসলামের (২৫) বিরুদ্ধে। এই ঘটনা তদন্তে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নজরে আনার পর গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, এরই মধ্যে তদন্তের কাজ কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানিয়েছে, সাহেদুল ইসলাম নামের যে আসামিকে উচ্চ আদালত জামিন দিয়েছে সেটার এজাহার ছিলো পুরোপুরি ভিন্ন। সেখানে কুকি চিনের নামে ২০ হাজার পোশাক জব্দের কোনো অভিযোগ ছিলো না। যার কারণে উচ্চ আদালত আসামি সাহেদুল ইসলামকে জামিন দেন। সেই জামিন আদেশে দুই বিচারপতি স্বাক্ষর করেন।
দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর সেই জামিন আদেশের প্রথম পৃষ্ঠায় মামলার এজাহার ও থানার নাম্বার এবং অভিযোগের ধারা বদলে ফেলে বসানো হয় কুকি চিনের নামে ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলার নাম্বার ও অভিযোগের ধারাসূমহ। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা সেই জামিন আদেশ কারাগারে দাখিল করে মুক্ত করে নেওয়া হয় আসামি সাহেদুলকে।
প্রায় ৭ মাস আগে এমন ঘটনা ঘটলেও প্রকাশ পায় চলতি সপ্তাহে। একই মামলার আরেক আসামি জামিনের শুনানিতে আগের জামিনের উদাহরণ তুলে ধরলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর বিষয়টি নজরে আসে রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের।
এ প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেছেন, তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা সত্য। তদন্ত চলছে। আপনারা দ্রুতই তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারবেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় একটি পোশাক কারখানার গুদাম থেকে কুকি-চিন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি এসব পোশাক প্রস্তুতের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দারকেও (৩৯) আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।