গ্রীষ্ম মৌসুম। পাহাড়ি ঝর্ণা শুকিয়ে কাঠ। তীব্র তাপদাহ, প্রচন্ড খরার কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাচ্ছে। আর এতে করে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে পানি স্বল্পতা। পানি স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে গেছে।
পিডিবি চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সারাদেশে বিদ্যুতের যে অবস্থা আমাদের চট্টগ্রামেও একই অবস্থা। চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলো থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবার পর আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে কেবল ১ নম্বর ইউনিটটি সচল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, কেন্দ্রের বাকি চারটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সচল থাকলেও প্রয়োজনীয় পানির অভাবে সেগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৭৭.৭০ মিন সি লেভেল (এমএসএল), অথচ এই মৌসুমে হ্রদে স্বাভাবিকভাবে ৮৪.০০ এমএসএল পানি থাকার কথা ছিল।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ (বিউবো) জানিয়েছে, দিন দিন হ্রদে পানি কমতে থাকায় উৎপাদন পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তবে আগামীতে যদি মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়, তবেই হ্রদে পানির পরিমাণ বাড়বে এবং সেই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও পুনরায় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।