রাঙামাটিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান, চাংলান ও পাতা উৎসবের দ্বিতীয় দিন উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। চাকমা ভাষায় এ দিনকে ‘মূল বিঝু’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ দিনে পাহাড়ি সম্প্রদায় ঐতিহ্যবাহী পাজন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করেন।
এ উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের বাসভবনে আয়োজিত বিজু উৎসবে যোগ দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি।
অনুষ্ঠানে পার্বত্যমন্ত্রী পার্বত্যবাসীকে বিজুর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য না রেখে সবাইকে নিজ নিজ সংস্কৃতি ও উৎসব পালনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতে “বৈসাবি” নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব নাম ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে উৎসব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো বৈষম্য চায় না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব নামে উৎসব পালন করবে। বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলানসহ সব উৎসব রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান মর্যাদা পাবে।”
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সমতল ও পাহাড়ের মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এসব উৎসব পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, বিজু উৎসব এখন সব সম্প্রদায়ের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ উৎসব পাহাড়ের মানুষের ঐক্য ও উন্নয়নের প্রতীক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।