রাঙ্গামাটির পাহাড়জুড়ে চলছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান, চাংলান ও পাতা উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ণিল আয়োজন। পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের এই মহালগ্নে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মেতেছে ঐতিহ্যবাহী জুম্ম খেলাধুলায়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে রাঙ্গামাটির চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে অংশ নেন শহর ও বিভিন্ন উপজেলার তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ রূপ নেয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মিলনমেলায়।
উৎসবে আধুনিক ক্রীড়ার বাইরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নানা খেলা আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বাঁশের তৈরি বিশেষ পাদুকা পরে দ্রুত হাঁটার ‘বাঁশ খরম’ প্রতিযোগিতা, নাদেং খেলা এবং বনজ বীজ দিয়ে লক্ষ্যভেদের ‘ঘিলা খেলা’।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়, বরং নিজেদের শেকড় ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি মাধ্যম।
অংশগ্রহণকারী সীমা চাকমা বলেন, সারা বছর এসব খেলা খুব একটা খেলা হয় না। বিজু উৎসবে খেলতে এসে শৈশব ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের কথা মনে পড়ে।
আরেক অংশগ্রহণকারী সুজন চাকমা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের বাইরে এসে মাঠে এসব খেলায় অংশ নেওয়া ভিন্ন রকম আনন্দ দেয়। এসব খেলা আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় বহন করে।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখতে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়। পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।